দোয়া কুনুত বাংলা অর্থসহ



দোয়া কুনুত


দোয়া কুনুত
দোয়া কুনুত
দোয়া কুনুত বিতর সালাতে পঠিত একটি দোয়া। দোয়া কুনুত বিতির সালাতে পড়তে হয়। বিতর শব্দের অর্থ বেজোড় আর সালাত শব্দের অর্থ নামাজ, একত্রে অর্থ হয় বেজোর নামাজ বা বেজোর সালাত । বেতের সালাত এশার নামাজের শেষে এক রাকাত,তিন রাকাত, পাঁচ রাকাত, সাত রাকাত, এগারো রাকাত,নামাজ পড়া হয় তাই বিতর সালাত। আর এই বিতর সালাতের শেষ রাকাতে দোয়া কুনুত পাঠ করতে হয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতর সালাতে শেষ রাকাতে রুকুতে যাওয়ার আগে দুই হাত তুলে আবার কখনো দুই হাত বেঁধে দোয়া কুনুত পাঠ করছেন।দোয়া কুনুত পাঠ করা ওয়াজিব। দোয়া কুনুত-

اَللَّمُمَّ اِنَّ نَسْتَعِيْنُكَ وَنَسْتَغْفِرُكَ وَنُؤْمِنُ بِكَ وَنَتَوَكَّلُ عَلَيْكَ وَنُثْنِىْ عَلَيْكَ الْخَيْرَ وَنَشْكُرُكَ وَلاَ نَكْفُرُكَ وَنَخْلَعُ وَنَتْرُكُ مَنْ يَّفْجُرُكَ-اَللَّهُمَّ اِيَّاكَ نَعْبُدُ وَلَكَ نُصَلِّىْ وَنَسْجُدُ وَاِلَيْكَ نَسْعَى وَنَحْفِدُ وَنَرْجُوْ رَحْمَتَكَ وَنَخْشَى عَذَابَكَ اِنَّ عَذَابَكَ بِالْكُفَّارِ مُلْحِقٌ

দোয়া কুনুতের বাংলা উচ্চারণ -

আল্লাহুম্মা ইন্না নাস্তাইনুকা ওয়া নাস্তাফিরুকা ওয়ানু মিনু বিকা ওয়া নাতাওয়াক্কালু 'আলাইকা ওয়া নুস্স্নী 'আলাইকাল খাইর, ওয়া নাকুরুকা ওয়ালা নাকফুরুকা ওয়া নাখ্লাউ ওয়া নারুকূ মায়-ইয়াফজুরুকা, আল্লাহুম্মা ইয়্যাকা না'বুদু ওয়ালাকা নুছাল্লী ওয়া নাজুদু ওয়া ইলাইকা নাস্‘য়া ওয়া নাফিদু ওয়া নারজু রহমাতাকা ওয়া নাখশা ‘আযাবাকা ইন্না ‘আযাবাকা বিকুফ্ফারি মুল্‌হিক ।


 দোয়া কুনুতের বাংলা সরল অনুবাদ-


ইয়া আল্লাহ্! নিশ্চয়ই আমরা আপনারই নিকট সাহায্য চাই, আপনারই নিকট পাপের ক্ষমা প্রার্থনা করি, আমরা আপনারই উপর ঈমান রাখি এবং আপনারই উপর ভরসা করি আর আপনারই প্রশংসা করি; আর সব কিছু আপনারই দান বলে স্বীকার করি এবং আপনারই প্রতি শুকরিয়া জ্ঞাপন করি। আমরা আপনাকে অস্বীকার করি না; বরং যারা আপনার অবাধ্য তাদের কাছ থেকে দূরে সরে থাকি এবং তাদেরকে বর্জন করি ।


ইয়া আল্লাহ্! আমরা একমাত্র আপনারই ইবাদত করি, আপনারই উদ্দেশ্যে নামায পড়ি এবং সিজদায় নত হই। আমরা আপনারই দিকে দ্রুতগতিতে ধাবিত হই, আপনারই রহমতের আশা করি এবং আপনার আজাবকে ভয় করি। নিশ্চয়ই আপনার আজাব কাফিরদের সাথে সম্পৃক্ত।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিরাজে গমনের সময় যখন বায়তুল মুকাদ্দাস পর্যন্ত পৌঁছলেন। তখন সমস্ত রুহ মোবারক মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাক্ষাৎ ও দোয়ার জন্য আসলেন।


রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত জিবরাঈল আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আদেশ অনুযায়ী ইমাম হইয়া এক রাকাত নামাজ আদায় করলেন।অতঃপর ৭০ ( সয়োঁত্তর ) হাজার ফেরেশতা নিয়ে মিকাঈল আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজির হলেন, রাসুল সাল্লাহু সাল্লাম এর সাক্ষাতের জন্য পূর্বের ন্যায় রাসুল (সাঃ)  জিবরাঈল আলাইহিস সালামের আদেশ অনুযায়ী ইমাম হয়ে পুনরায় আরও এক রাকাত নামাজ আদায় করলেন।অতঃপর ৭০( সয়োঁত্তর ) হাজার ফেরেশতা নিয়ে ইসরাফিল আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজির হল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাক্ষাৎ ও দোয়া প্রত্যাশী হয়ে।


জিবরাঈল আলাইহি ওয়াসাল্লামের হুকুম অনুযায়ী তিনি ইমাম হইয়া আরো এক রাকাত নামাজ আদায় করলেন। অতঃপর বহু ফেরেশতা নিয়ে আজরাইল আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজির হইলো রসূল (সঃ) এর সাক্ষাৎ ও দোয়া প্রত্যাশী হইয়া, এবার জিবরাঈল আলাইহিস সাল্লাম বললেন,আপনি সবাইকে নিয়ে দোয়া কুনুত পাঠ করুন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। জিবরাঈল আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আদেশ ক্রমে তাই করলেন তথাপি উপরুক্ত তিন রাকাত নামাজ আমাদের উপর ওয়াজিব করা হয়েছে। যেটি বিতর নামাম বলে আমরা জানি, বিতর নামাযে দোয়া কুনুত পাঠ করা ওয়াজিব।


বিতর সালাতে দোয়া কুনুত রসূর (স) কখন পরতেন এ বিষয়ে নিচে কয়েকটি সহিহ হাদিস উল্লেখ্য করা হলো-#1.‏

‘আবদুল্লাহ্‌ ইবনে ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

তিনি একদা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রী মাইমূনা (রাঃ)-এর ঘরে রাত কাটান। তিনি ছিলেন ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর খালা। ইব্‌নু আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ অতঃপর আমি বিছানায় প্রশস্ত দিকে শুলাম এবং আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- ও তার স্ত্রী বিছানার লম্বা দিকে শুলেন; আর আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘুমিয়ে পড়লেন।

এমনিভাবে রাত যখন অর্ধেক হয়ে গেল তার কিছু পূর্বে কিংবা কিছু পরে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জাগলেন। তিনি বসে হাত দিয়ে তার মুখমন্ডল থেকে ঘুমের আবেশ মুছতে লাগলেন। অতঃপর সূরা আল-‘ইমরানের শেষ দশটি আয়াত তিলাওয়াত করলেন। অতঃপর দাঁড়িয়ে একটি ঝুলন্ত মশক হতে সুন্দরভাবে উযূ করলেন। অতঃপর সালাতে দাড়িঁয়ে গেলেন। ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমিও উঠে তিনি যেরূপ করেছেন তদ্রুপ করলাম।


তারপর গিয়ে তাঁর বাম পাশে দাঁড়ালাম। তিনি তাঁর ডান হাত আমার মাথার উপর রাখলেন এবং আমার ডান কান ধরে একটু নাড়া দিয়ে ডান পাশে এনে দাঁড় করালেন। অতঃপর তিনি দু’রাক’আত সালাত আদায় করলেন। তারপর দু’রাক’আত, তারপর দু’রাক’আত, তারপর দু’রাক’আত, তারপর দু’রাক’আত, তারপর দু’রাক’আত, তারপর বিতর আদায় করলেন। তারপর শুয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ পর তাঁর নিকট মুয়ায্‌যিন এলে তিনি দাঁড়িয়ে হাল্কাভাবে দু’রাক’আত সালাত আদায় করলেন। তারপর বেরিয়ে গিয়ে ফাজরের সালাত আদায় করলেন।

(১১৭; মুসলিম ৬/২৬, হাঃ ৭৬৩)

সহিহ বুখারী, হাদিস নং ১৮৩



#2-দ্বিতীয় হাদিস-


সিমুল আহ্ওয়াল (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ


তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, তিনি নামাযে কুনূত পড়বেন কি না, তিনি বললেন, হ্যাঁ।  আমি বললাম, রুকুর আগে পড়তে হবে নাকি পরে?  তিনি বললেন, রুকুর আগে।  আমি বললাম, আপনার সূত্রে কেউ আমাকে বলেছে যে আপনি রুকুর পরে কুনূত পাঠ করেন।  সে বলল সে মিথ্যা বলেছে।

কেননা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাত্র এক মাস রুকুর পর কুনূত পড়তেন।  এর কারণ ছিল এই যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুশরিকদের কাছে সত্তর জন শ্রমিকের একটি দলকে একটি কাজে প্রেরণ করেছিলেন।  তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাদের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছিল।  হানাদাররা বিজয়ী হয়।  তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের অভিসম্পাত করেছেন এবং নামাযের জন্য রুকু করার পর এক মাস কুনূত পাঠ করেছেন।  সহীহ বুখারী, হাদীস নং 4096


হাদীসের মানঃ সহীহ হাদীস


দোয়া কুনুত না পড়লে কি বিতর নামাজ হবে?   বিতর নামাযে দোয়া কুনুত না পড়লে কি নামাজ হবে, ইমাম আবু হানিফা (র) এর মাযহাব মতে বেতের সালাতে দোয়া কুনুত পাঠ করা ওয়াজিব।কোন কারণে যদি পড়া না হয় তাহলে নামাজের শেষ বৈঠকে সাহু সিজদা দিতে হবে নতুবা ওয়াজিব তরক করার কারণে নামায ভঙ্গ হয়ে যাবে।


দোয়া কুনুত এর ফজিলত, আবু দাউদ শরীফের বর্ণনায় আছে - হাসান ইবনে আলী রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হতে দোয়াটি শিখেছেন। দাউদ শরীফের অন্য আরেকটি বর্ণনায় আরো আছে যে মুসলমানদের উপর বিপর্যয় আসলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোয়া কুনুত বেশি বেশি পাঠ করতেন।আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেতের সালাতে শেষ রাকাতের রুকুতে যাওয়া পূর্বে দোয়া কুনুত পাঠ করতেন,


বিতর নামাযে দোয়া কুনুত এর বদলে সূরা ইখলাস তিনবার পাঠ করা বেতের নামাযে দোয়া কুনুত এর পরিবর্তে সূরা ইখলাস পাঠ করা কথাটি বানোয়াট এটি কোন গ্রহণযোগ্য কথা নয়, বা হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়, কেননা (সূরা কুলহু আল্লাহু আহাদ) ইখলাস দোয়া সম্বলিত কোন সূরা নয়,আর দোয়া কুনুত এর উদ্দেশ্য আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থনা করা দোয়া করা,সেক্ষেত্রে দোয়া কুনুত এর পরিবর্তে অন্য কোন একটি দোয়া পড়লেও ওয়াজিব আদায় হবে। তবে হাদীসে বর্ণিত দোয়ায়ে কুনুত পাঠ করা সুন্নত। তাই আমাদের সকলের উচিত দোয়া কুনুত মুখস্থ করা


দোয়া কুনুত না জানলে কি পড়বেন, দোয়া কুনুত না জানলে এই ছোট্ট দোয়াটি পড়তে পারেন। যাহারা দোয়া কুনুত জানে না বা মুখস্ত করতে পারে না তাহারা নিম্নোক্ত ছোট্ট দোয়াটি পড়তে পারেন।

দোয়াটি এই- 

রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাও ওয়াকিনা আজাবান্নার।

Next Post
No Comment
Add Comment
comment url