শাওয়াল মাসের ফজিলত ও আমল

 শাওয়াল মাসের ফযীলত সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা নিচে দেওয়া হলো-


শাওয়াল মাসের চাঁদের রাত্রিতে কিংবা ঈদুল-ফিতরের নামাযের পর রাকআত নামায আদায় করা যায়। উহার প্রতি রাকআতে সূরা ফাতিহার পরে একশতবার করে সূরা ইখলাস পাঠ করতে হয়। এই নামায আদায়কারীর জন্য বেহেশতের সকল দরজা খুলে দেওয়া হবে এবং দোযখের সকল দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে । আর এ নামাযী তাহার বেহেশত না দেখা পর্যন্ত মৃত্যু হবে না।


 হযরত রাসূলে করীম (স) এরশাদ করেছেন, যেই ব্যক্তি শাওয়াল মাসে এন্তেকাল করবে, সে শহীদের মর্যাদা লাভ করবে। অন্য এক হাদীসে তিনি আরও এরশাদ করেছেন, যেই ব্যক্তি শাওয়াল মাসে গুনাহের কার্যাদি পরিহার করে চলবে, তাহার জন্য আল্লাহ তাআলা বেহেশত নির্ধারিত করে রাখবেন।


ঈদুল-ফিতরের নামায : এক মাস রোযা রাখার পরে বিশ্বব্যাপিয়া সকল মুসলমানের ঘরে ঘরে সুশীর বন্যা "ঈদুল-ফিতর” উদযাপিত হয়ে থাকে। ধনী-গরীব নির্বিশেষে সকলেই এই



খুশীতে শরীক হয়ে থাকে। এই দিবসে ধনবান লোকেরা গরীবদিগকে সদকায়ে ফিতের দান করে বলে এই খুশী দিনের নাম হচ্ছে ঈদুল ফিতর । এই দিন ধনী গরীব সকলে নতুন পোশাক পরিধান করে থাকে এবং নিজ নিজ সামর্থ্যানুযায়ী মিষ্টান্ন ও খাদ্য তৈয়ার করে নিজেরা খায় এবং অন্যদেরকে পরিবেশন করে থাকে। আর একে অন্যের বাড়ীতে বেড়াইয়া থাকে। নামাযের পূর্বে নতুন বা পরিষ্কার- পোশাক পরিধান করে। খুশবু ব্যবহার করে ঈদগাহ্ ময়দানে যেতে হয়। এবং পথিমধ্যে তাকবীর বলতে হয় ।


ঈদের তাকবীরে তাশরীফঃ


ঈদ উপলক্ষে এ তাকবীর বার বার পাঠ করতে হয়।


الحمد الله اكبر - الله اكبر - لا اله الا الله والله اكبر الله أكبر ولله


উচ্চারণঃ আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ। অতঃপর ঈদগাহে সমবেত হয়ে অতিরিক্ত ছয় তকবীরের সহিত দুই রাকআত নামায ইমামের পিছনে আদায় করতে হয় । এই নামাযের নিয়ম এই যে, তাকবীরে তাহরীমার পরে সানা পড়ে ইমামের সাথে অতিরিক্ত তিনটি তাকবীর বলতে হবে। তারপর দ্বিতীয় রাকআতে রুকূর পূর্বে পুনঃ তিনটি তাকবীর বলতে হবে। নামায শেষ করে ইমাম সাহেব দুইটি খুবা পাঠ করে মুনাজাত করবে। তারপর পরস্পর একে অন্যের সহিত মোয়ানাকা অর্থাৎ কোলাকুলি করে গৃহে প্রত্যাবর্তন করবে।


وَعَنْ أَبِي أَيُّوبَ الأَنْصَارِيِّ - رضي الله عنه - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «مَنْ صَامَ رَمَضَانَ، ثُمَّ أَتْبَعَهُ سِتًّا مِنْ شَوَّالٍ كَانَ كَصِيَامِ الدَّهْرِ» رَوَاهُ مُسْلِمٌ


আবূ আইয়ূব আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:


রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন- যে ব্যক্তি রমযানের সওমব্রত পালনের পর শাওয়ালেরও ৬টি সওম পালন করল, (পুণ্যের দিক দিয়ে) পূর্ণ একটি বছর সওম পালন করল । [৭২৬]


আরো পড়ুন -

ফুটনোটঃ

[৭২৬] মুসলিম ১১৬৪, তিরমিয়ী ৭৫৯, আবূ দাউদ ২৪৩৩, ইবনু মাজাহ ১৭১৬, আহমাদ ২৩০২২। 


বুলুগুল মারাম, হাদিস নং ৬৮১

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


আবূ আইয়ূব আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:


তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে লোক রমযান মাসে রোযা পালন করলো, তারপর শাওয়াল মাসের ছয় দিন রোযা পালন করলো, সে লোক যেন সম্পূর্ণ বছরই রোযা পালন করলো। 


   -হাসান সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৭১৬), মুসলিম



জাবির, আবূ হুরায়রা ও সাওবান (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা আবূ আইয়ূব (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান সহীহ্‌ বলেছেন। একদল বিশেষজ্ঞ আলিম এই হাদীসের ভিত্তিতে শাওয়াল মাসের ছয় দিন রোযা পালন করাকে মুস্তাহাব মনে করেন। ইবনুল মুবারাক বলেন, প্রতি মাসে তিন দিন রোযা পালনের মত এটিও মুস্তাহাব। এ রোযা রমযানের রোযার পরপরই পালনের কথা কোন কোন হাদীসে উল্লেখ আছে। তাই তিনি এই ছয়টি রোযা শাওয়াল মাসের শুরুর দিকে পালন করাকে বেশি পছন্দীয় মনে করেছেন তিনি আরও বলেছেনঃ শাওয়াল মাসের ভিন্ন ভিন্ন দিনের রোযা পালন করাও জায়িয আছে।


 আবূ ঈসা বলেন, বর্ণনাকারী আবদুল আযীয ইবনু মুহাম্মাদ এই হাদীসটি সাফওয়ান ইবনু সুলাইম ও সা’দ ইবনু সাঈদের সূত্রে উমার ইবনু সাবিত হতে আবূ আইয়ূব (রাঃ)-এর সনদে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণনা করেছেন। শুবা (রাঃ) এই হাদীস ওয়ার্‌কা ইবনু উমার হতে সা’দ ইবনু সাঈদ (রহঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এই সা’দ ইবনু সাঈদ হলেন ইয়াহ্‌ইয়া ইবনু সাঈদ আল-আনসারীর ভাই। একদল হাদীস বিশেষজ্ঞ তার স্মৃতিশক্তির সমালোচনা করেছেন।

   হাসান বাসরী হতে বর্ণিত আছে যে, তার নিকট শাওয়ালের ছয়টি রোযার উল্লেখ করা হলে তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ তিনি পূর্ণ বৎসরের পরিবর্তে এই মাসের রোযার প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। সনদ সহীহ্‌, মাকতু। 


জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ৭৫৯

হাদিসের মান: হাসান সহিহ

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url