সূরা মূলক এর ফজিলত
সূরা মূলক এর ফজীলত
এই ছূরা সম্পর্কেও হুজুর (ছঃ) বলেন, আমার মন চায় যে, সূরা মূলক সমস্ত উম্মতের অন্তরেই থাকুক। একটি রেওয়ায়েতে আসিয়াছে, যে ব্যক্তি ছুরা মূলক ও আলীফ লাম সিজদা মাগরিব ও এশার মাঝখানে পড়িবে সে যেন সবে ক্বদরে থাকিয়া এবাদত করিল । অন্যত্র আছে, যে এই ছুরা পড়িল তাহার জন্য ৭০ টি নেকী লেখা যাইবে ও ৭০টি বদী মাফ করা যাইবে । অন্য হাদীছে আছে, যে এই দুই ছুরা পড়িল তাহার জন্য সবে কদরের সমতুল্য ছাওয়াব লেখা গেল।
তিরমিজি শরীফে ইবনে আব্বাছ (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে, ছাহাবারা কোন একস্থানে তাঁবু ফেলিয়াছিল। তাঁহারা জানিত না যে, সেখানে কবর আছে। হঠাৎ তাহারা শুনিতে পাইল যে, সেখানে কেহ তাবারাকাল্লাজী সূরা পাঠ করিতেছে। এই ঘটনা হজুরেপাক (ছঃ) এর নিকট প্রকাশ করা হইলে হুজুর (ছঃ) বলিলেন, এই ছুরা কবর আজাব হইতে ফিরাইয়া রাখে এবং নাজাত দেয়। হযরত জাবের (রাঃ) বলেন, হুজুর (ছঃ) এই ছুরা এবং আলীফ লাম-মীম-সেজদা না পড়িয়া শুইতেন না। খালেদ এবনে মা’দান বলেন, এক ব্যক্তি বড় পাপী ছিল সে একমাত্র ছুরায়ে ছেজদা পড়িত। এই ছুরা তাহার উপর আপন পর বিছাইয়া আল্লাহর দরবারে তাহার জন্য সুপারিশ করিল, তাহার সুপারিশ কবুল হইল ও লোকটির জন্য প্রত্যেক বদীর বদলে একটি করিয়া নেকী হইল। তিনি আরও বলেন, এই ছুরা আল্লাহর দরবারে ঝগড়া করিয়া বলে, হে আল্লাহ! আমায় পড়নেওয়ালাকে ক্ষমা কর নতুবা তোমার কিতাব হইতে আমাকে মুছিয়া দাও। উহা পাখীর মত কবরে মুর্দার উপর ডানা বিস্তার করিয়া দেয় যেন আজাব না হইতে পারে। এই সব ফজীলত তাবারাকাল্লাজী সম্পর্কেও বর্ণিত আছে। হযরত তাউস (রহঃ) বলেন, এই ছুরায় অন্যান্য প্রত্যেকটি ছুরার উপর ৬০টি নেকী বেশী পাওয়া যায়।
কবর আজাব কোন সামান্য ব্যাপার নহে, মৃত্যুর পর প্রত্যেকেই উহার সম্মুখীন হইবে। হযরত ওসমান (রাঃ) যখন কবরের ধার দিয়া যাইতেন তখন কান্নায় তাঁহার দাড়ি ও বুক ভাসিয়া যাইত। লোকে জিজ্ঞাসা করিত, আপনি জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনায়ও এতবেশী কান্না কাটি করেন না, এর কারণ কি? তিনি বলেন, আমি হুজুরে পাকের এর নিকট শুনিয়াছি, কবর আখেরাতের প্রথম মঞ্জিল। যে ব্যক্তি এখানে নাজাত পাইল, তাহার জন্য সমস্ত মঞ্জিল আছান । আরও শুনিয়াছি কবর হইতে ভয়ঙ্কর দৃশ্য আমি আর কোথাও দেখি নাই । হে আল্লাহ! তোমার করুণারাশী দ্বারা ঐ শাস্তি হইতে আমাদিগকে রক্ষা কর।
) عن ابن عباس رض أن رجلا قال يا رسول الله أن الأعمال
أفضل قال الحالة المرتجل قال يارسول الله ما الحال المرتجل قال صاحب القران يشرب من أوله حتى يبلغ أخرة ومن أخره حتى يبلغ أول كلماحل إرتحل
অর্থঃ এবনে আব্বাছ (রাঃ) বলেন, এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করিলেন, হুজুর! সব চেয়ে বড় আমল কি? হুজুর (ছঃ) বলিলেন, হাল মোরতাহেল। সে পুনরায় জিজ্ঞাসা করিল, হাল মোরতাহেলের অর্থ কি? হুজুর (ছঃ) বলেন, যে কোরআন শুরু হইতে আরম্ভ করিয়া শেষ পর্যন্ত পড়ে। শেষ হওয়ার পর আবার শুরু হইতে আরম্ভ করে এবং সেখান হইতে আগে অগ্রসর হয়। হাল অর্থ মঞ্জিলে আশ্রয় গ্রহণকারী আর মোরতাহেল অর্থ প্রত্যাবর্তনকারী । অর্থাৎ কালামে পাক খতম করিবার পর সে প্রথম হইতে পুনরায় আরম্ভ করে । খতম করিয়া ক্ষান্ত হয় না । কানজুল উম্মাল গ্রন্থে উহার
অর্থ আল খাতেমুল মোতাতেহ বলা হইয়াছে, যাহার অর্থ ঠিক আগের মতই করা হইয়াছে সম্ভবতঃ আমাদের দেশে কোরআন খতম করিয়া যে আবার শুরু হইতে মোফলেহুন পর্যন্ত পড়িয়া লয়, এই হাদীছ হইতে সংগৃহীত । কিন্তু লোকে উহাকে আদব মনে করিয়া করে, পুনরায় খতম করিবার এহতেমাম করে না। এতকান গ্রন্থে উল্লেখ আছে, হুজুর (ছঃ) খতমের পর কুল আউজু শেষ করিয়া ছুরা বাকারা মোফলেহুন পর্যন্ত পড়িতেন। পরে খতমে কোরআনের দোয়া করিতেন।
(د) عن ابي موسى الاشعری رم قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم تعاهدوا القرآن فوالذي نفسي بيده لهو اشت تفصا من الإبل في عقلها. (بخاري وسلم)
অর্থঃ হুজুরে পাক (ছঃ) বলেন, কোরআনের খবর রাখার ব্যাপারে সচেতন থাকিও । ঐ আল্লাহর কছম যাহার হাতে আমার জীবন উট রজ্জু ছাড়া হইলে যেইরূপ হাত ছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা, খবর না রাখিলে ছিনা হইতে কোরআন ঐরূপ বাহির হইয়া যাইবার আরও বেশী সম্ভাবনা অর্থাৎ হেফাজত না করিলে বা রজ্জু ছাড়া হইলে জানোয়ার যেইভাবে পলাইয়া যায়, এইভাবে কালামে পাকের হেফাজত না করিলেও উহা ইয়াদ থাকেনা। প্রকৃতপক্ষে কোরআন শরীফ মুখস্ত থাকা উহার একটি প্রকাশ্য মো'জেজা। নচেৎ উহার এক তৃতীয়াংশ পরিমাণ অন্য বই মুখস্ত করাও অসম্ভব । ছুরা কামারে আল্লাহ পাক হেফজ করাকে খাছ এহছান বলিয়া আখ্যায়িত করিয়াছেন।
-(বোখারী, মুছলিম) ولقد يسرنا القران الن كرنهل من مدير
আমি কোরআনকে হেফজ করিবার জন্য সহজ করিয়া দিয়াছি, কোন ব্যক্তি কি হেফজ করিতে প্রস্তুত আছে? এখানে প্রশ্ন আদেশ অর্থে ব্যবহৃত
হইয়াছে। যেই বস্তুকে আল্লাহ তায়ালা বারবার তাকীদ করিয়া বলিয়াছেন উহাকেই আমরা সময়ের অপচয় বা অনর্থক বলিয়া গণ্য করিতেছি। অতঃপর আমরা যে ধ্বংস হইতেছি না উহাই আল্লাহর মেহেরবাণী। আশ্চর্যের বিষয়! হযরত ওজায়ের (আঃ) তওরাত মুখস্ত লিখিয়া দেওয়াতে লোকে তাহাকে আল্লাহর পুত্র পর্যন্ত বলিয়া ফেলিল। আর কোরআন হেফজ করাকে সমস্ত উম্মতের জন্য আছান করিয়া দেওয়া সত্বেও উহার সহিত আমরা কিরূপ ব্যবহার করিয়া থাকি।
نسيعلم الذين ظلموا أي منقلب ينقلبون.
মূলকথা হেফজ করা আল্লাহর একটি দান মাত্র। উহার প্রতি অবহেলা হইলে উহা ভুলাইয়া দেওয়া হয়। হুজুর (ছঃ) বলেন, আমার নিকট উম্মতের সমস্ত গুনাহ পেশ করা হইয়াছিল, কিন্তু কোরআন শরীফ পড়িয়া ভুলিয়া যাওয়ার মত বড় পাপ আমি আর কিছুই দেখিতে পাইলাম না। অন্য রেওয়ায়েতে আছে, যে ব্যক্তি কোরআন শরীফ হেফজ করিয়া ভুলিয়া গিয়াছে কেয়ামতের দিবসে সে আল্লাহর দরবারে কুষ্ঠ রুগী হইয়া হাজির হইবে। কোরআনের আয়াতেও উহার বিষয় কিছুটা প্রমাণ পাওয়া যায়। আয়াতের অর্থ এই যে
“যে ব্যক্তি আমার জিকির হইতে বিমুখ থাকিবে আমি উহার জীবনকে বিড়ম্ভনায় পরিণত করিয়া দিব এবং কেয়ামতের দিন তাহাকে অন্ধ করিয়া উঠাইব। সে বলিবে হে আল্লাহ! আমাকে কেন অন্ধ করিয়া উঠাইলেন, আমিত চক্ষুওয়ালা ছিলাম। এরশাদ হইবে, তোর নিকট আমার আয়াতসমূহ আসিয়াছিল, তুই সেইগুলিকে ভুলিয়া গিয়াছিলি কাজেই অদ্য তোকেও ভুলিয়া যাওয়া হইবে অর্থাৎ তোর কোন সাহায্য নাই ।”
