রমজান মাসের ফজিলত ও আমল

রমজান মাসের ফজিলত
রমযান মাসের রোযা আল্লাহ তাআলা বিশ্বের মুসলমান নর-নারীর জন্য ফরয করেছেন। আল্লাহতাআলা কুরআন মাজিদের মধ্যে বলেন, হে বিশ্বাসী বান্দাগণ! তোমাদের উপর রোযা ফরয করা হয়েছে, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীগণের ওপর ফরয করা হয়েছিল। যাহাতে তোমরা আল্লাহকে ভয় কর ।


হযরত নবী করীম (স) রোযা সম্পর্কে ফরমাইয়াছেন, যেই লোক পূর্ণ বিশ্বাসের সহিত এবং আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভের আশায় রমযানের রোযা রাখবে, সেই লোক এইভাবে বেগুনাহ হয়ে যায়, যেমনভাবে মায়ের উদর হতে নিষ্পাপ জন্মিয়াছিল ।


অন্য হাদীসে নবী করীম (স) ফরমাইয়াছেন, যখন রমযান উপস্থিত হয়, তখন বেহেশতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয় এবং দোযখের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়, আর শয়তানকে বেঁধে রাখা হয় ।


রমযান মাসের রোযায় পানাহারের হিসাব হবে না। রোযা মানুষকে পাপ কার্য হতে ফিরায়ে রাখে, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ হয়, রোযাদারের রিযিক বর্ধিত হয়, ধন



সম্পদ বৃদ্ধি পায়, রোযাদারের সকল কার্যাদি ইবাদতের মধ্যে গণ্য হয়, রোযাদারের আমলের নেকী বাড়াইয়া দেওয়া হয়, আল্লাহর রহমত ও বরকত বৃদ্ধি পায়, সকল ফেরেশতা রোযাদারের জন্য মাগফিরাত কামনা করে। এই মাসের ইবাদতে সত্তরগুণ পুণ্য নসীব হয়। 


রোযাদারের বেহেশত প্রত্যহ সজ্জিত করা হয়, রোযাদারের ফরিয়াদ কবুল হয়, রমযানের প্রতি শুক্রবারের রাত্রিতে উনচল্লিশ লক্ষ দোযখী মুক্ত হয়ে থাকে এবং তাহাজ্জুদের সময় রোযাদারের গুনাহসমূহ ক্ষমা করা হয় । 


তারাবীর নামায 

রমযান মাসে ইশার নামাযের পরে বিতরের পূর্বে তারাবীহর নামায আদায় করতে হয় । এই নামায একাকী কিংবা জামাআতের সহিত আদায় করা যায় । এই নামায দুই দুই রাকাআতের নিয়তে বিশ রাকআত আদায় করতে হয়


হাদীস শরীফে উল্লেখ আছে হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) ফরমান, আমি রাসূলে করীম (স) কে বলতে শুনেছি যে, সুউচ্চ আসমানের মধ্যে হাজিরাতুল কুদস” নামক একটি নূর উদ্ভাসিত হবার স্থান আছে। আল্লাহ তাআলা উক্ত স্থান হতে তারাবীহ নামাযীদের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দান করে থাকেন ।


আর এক হাদীসে উল্লেখ আছে, হযরত আলী (রাঃ) এরশাদ করেন, ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রাঃ) এর জামানায় সকল মসজিদ তারাবীহ নামাযের জন্য পরিপূর্ণ হয়ে যেত ।


তারাবীহ নামায আদায় না করলে রোযার পূর্ণ সওয়াব পাওয়া যায় না । তারাবীহ নামাযের পরে বিতর নামায আদায় করতে হয়। একাকী তারাবীহ নামায আদায়কারী বিতরও একাকী আদায় করবে আর জামাআতে তারাবীহ আদায় করলে বিতর নামাযও জামাআতে আদায় করবে।


তারাবির নামাজে ফেরেস্তারা অংশগ্রহণ করে


إن في السماء ملائكة لا يعلم عددهم إلا الله فإذا دخل رمضان استأذنوا ربهم أن يحضروا مع أمة محمد – صلى الله عليه وسلم – صلاة التراويح .


বর্ণনাকারী থেকে বর্ণিতঃ:


“আসমানে এত  পরিমান ফেরেশতা রয়েছ যে, যার সংখ্যা মহান আল্লাহই ভালো জানেন, যখন রমযান মাস আগমণ করে, তখন তারা উম্মতে মুহাম্মদির সাথে রমযানের তারাবি নামাজে অংশ গ্রহণ করার জন্য মহান আল্লাহর কাছে অনুমতি প্রার্থনা করে।” 


বায়হাকি ফি শু’আবুল ঈমান (৩/৩৩৭), তিনি আলির কথা হিসেবে এটা বর্ণনা করেছেন। সুয়ূতি দুররুল মানসুর (৮/৫৮২) একে দুর্বল বলেছেন। কানজুল উম্মাল: (৮/৪১০)

  


রমজানের দুর্বল হাদিস, হাদিস নং ৩৫

হাদিসের মান: নির্ণীত নয়

খোরাসানের কালো পতাকাবাহী বাহিনী

রুহ কি ? রূহু শব্দের তাৎপর্য-

সূরা মূলক এর ফজিলত

সূরা ইখলাসের ফজিলত



শবে কদর :


মহান আল্লাহ তাআলা সমস্ত মাসের মধ্যে রমযান মাসকে শ্রেষ্ঠ হিসাবে বরকত ও রহমত দান করেছেন । এই মাসের ভিতরে কদরের রাত্রি অবস্থিত, যাহা হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম । এই রাত্রিতে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআন শরীফ অবতীর্ণ করেছেন।এইরাত্রের ফযীলত অপরিসীম। এই রাত্রিতে যারা জাগরিত থেকে নফল ইবাদত করবে, তাহারা হাজার মাসের চেয়েও বেশী ইবাদতের পুণ্য লাভ করবে । আল্লাহ তাআলা এই রাত সম্পর্কে সূরা কদর নাযিল করেছেন ।



সূরা কদরের অর্থ :


অর্থ : নিশ্চয়ই আমি কদরের রাত্রিতে কুরআন শরীফ নাযিল করেছি। আর আপনি কি [হে মুহাম্মদ (স) অবগত আছেন যে কদরের রাত্রটি কি? কদরের রাত্রি হাজার মাস হইতেও উত্তম। এই রাত্রে প্রত্যেক কাজের জন্য ফিরিশতাগণ ও রূহ সকল আল্লাহর আদেশে পৃথিবীর সর্বত্র অবতরণ করিয়া থাকে এবং ভোর পর্যন্ত আল্লাহর শান্তি ও সালামতি বিরাজিত থাকে ।


হযরত নবী করীম (স) এরশাদ করেছেন : 


আফদ্বালুল লাইয়ালি লাইলাতুল ক্বারি ।


افضل اليالي ليلة القدر


অর্থ : “সমস্ত রাত্রির মধ্যে কদরের রাত্রটি সর্বোত্তম।” কারণ এই রাত্রের নফল ইবাদতে যেইরূপ পুণ্য লাভ হয় যাহা অন্য কোন রাত্রে হয় না ।

শবে কদরের নামায :

কদরের রাত্রে ইশা ও তারাবীহ নামাযের পরে কদরের নফল নামায আদায় করতে হয়। এই নামায দুই দুই রাকাআতের নিয়তে আদায় করতে হয় । এই নামায কমের পক্ষে বার রাকাআত পড়তে হয়। আর অধিক সংখ্যার কোন সীমা নাই, যে যত রাকআত পড়তে পারে উহা উত্তম । এই নামাযের প্রতি রাকআতে সূরা ফাতিহার পরে তিনবার সূরা কদর এবং তিনবার সূরা ইখলাস পাঠ করতে হয় যাহারা সূরা কদর জানে না তাহারা শুধু সূরা ইখলাস পড়বে ।

কদর নামাযের নিয়ত :


উচ্চারণ - নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তাআলা রাকায়াতায় সালাতিল লাইলাতিল ক্বাদরি মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা'বাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার ।


বাংলা নিয়ত - আমি কিবলামুখী হয়ে আল্লাহর জন্য দুই রাকাআত কন্দরের নামায আদায় করবার নিয়ত করলাম । আল্লাহু আকবার । প্রতি চার রাকআত নামাযের পরে নিম্নের দোয়াটি যত বেশি সম্ভব পাঠ করবে।


দোয়াটি এইঃ اللهم انك عفو تحب العفو فاعف على يا غفو -


উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুয়্যুন তুহিব্বুল আয়া ফা'ফু আন্নী ইয়া গাফূরু । অর্থঃ হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই তুমি ক্ষমাকারী, তুমি ক্ষমাকে ভালবাস, সুতারং আমাকে ক্ষমা করে দাও ।


শবে কদরের রাত্রি নির্ধারণ


أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عُبَادَةُ بْنُ الصَّامِتِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ يُخْبِرُ بِلَيْلَةِ الْقَدْرِ، فَتَلاَحَى رَجُلاَنِ مِنَ الْمُسْلِمِينَ فَقَالَ ‏ "‏ إِنِّي خَرَجْتُ لأُخْبِرَكُمْ بِلَيْلَةِ الْقَدْرِ، وَإِنَّهُ تَلاَحَى فُلاَنٌ وَفُلاَنٌ فَرُفِعَتْ وَعَسَى أَنْ يَكُونَ خَيْرًا لَكُمُ الْتَمِسُوهَا فِي السَّبْعِ وَالتِّسْعِ وَالْخَمْسِ


‘উবাদাহ ইব্‌নু সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:


আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লায়লাতুল কদ্‌র সম্পর্কে জানানোর জন্য বের হলেন। তখন দু’জন মুসলমান বিবাদ করছিল। তিনি বললেনঃ আমি তোমাদের লাইলাতুল কদ্‌র সম্পর্কে জানানোর জন্য বেরিয়েছিলাম; কিন্তু তখন অমুক অমুক বিবাদে লিপ্ত থাকায় তা (লাইলাতুল কদরের নির্দিষ্ট তারিখ সম্পর্কিত জ্ঞান) উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। আর হয়তো বা এটাই তোমাদের জন্য মঙ্গলজনক হবে। তোমরা তা অনুসন্ধান কর (রমযানের) ২৭, ২৯ ও ২৫ তম রাতে।


(২০২৩, ৬০৪৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৭, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৭)

  


সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৪৯

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


ই'তেকাফের নিয়ম :


রোযা রাখা অবস্থায় নিয়ত করে কিছু সময়ের জন্য ইবাদতের উদ্দেশ্যে মসজিদে অবস্থান করাকে ই'তেকাফ বলা হয়। যাহারা ইতেকাফের নিয়ত করবে, তাহাদের জন্য তিনটি বিষয় দরকার। প্রথমে মসজিদ হতে হবে, দ্বিতীয় ইতেকাফের নিয়ত করতে হবে, তৃতীয় নাপাকী হতে পাক থাকতে হবে ।


ইতেকাফ তিন প্রকার

 যথা : ওয়াজিব, সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ ও মুস্তাহাব ই'তেকাফ । যদি কোন ব্যক্তি ইতেকাফের মান্নত করে,তবে ইহা আদায় করা ওয়াজিব । আর রোযার মাসের শেষ দশদিন ই'তেকাফ করাকে সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ বলে । সময় আর রোযার মাস ব্যতীত অন্য ইতেকাফ করাকে মুস্তাহাব ই'তেকাফ বলা হয় ।


স্ত্রীলোকেরা ই'তেকাফ করলে তাহাদের মসজিদে যেতে হবে না, তাহারা ঘরের মধ্যে কোন নির্জন স্থানে ই'তেকাফে বসবে। ই'তেকাফ অবস্থায় দুনিয়ারী কথাবার্তা, কাজকর্ম করা জায়েয নাই, একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করবে। ই'তেকাফের মুদ্দত কমের পক্ষে তিনদিন তিনরাত্রি আর ঊর্ধ্ব মুদ্দত দশদিন দশরাত্রি । ইহার কম বেশী হলে ই'তেকাফ শুদ্ধ হবে না ।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url