নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি কাকে বলে-নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ এবং মনে রাখার ম্যাজিক কৌশল

নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধিকাকে বলে

নিপাতন শব্দের অর্থ নিয়মবহির্ভূত। সুতরাং প্রচলিত সন্ধি নিয়মগুলিকে না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

এককথায় যা নিয়ম মানে না তবুও ঠিক,এরকম সন্ধিকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির প্রকার

নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি ৩ প্রকার

1.নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধিনি

2.পাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি

3.নিপাতনে সিদ্ধ বিসর্গস্বন্ধি


নিচে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি মনে রাখার কৌশল দেওয়া হলো

বিশেষ নিয়মে সাধিত সন্ধি ছন্দ আকারে পড়লে সকলের কাছে পরিষ্কৃত হবে এবং সবার মনে  থাকবে। যেমন:উত্থান উত্থাপন পরিষ্কার, সংস্কৃত সংস্কৃতি সংস্কার।


1.নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি


প্রথমে একনজরে দেখি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরন-



🔰দ্যুলোক (দিব + লোক)।


🔰তস্কর (তৎ + কর)।


🔰পতঞ্জলী (পতৎ + অঞ্জলি)।


🔰বনস্পতি (বন্ + পতি)। 


🔰ষোড়শ (ষট্‌ + দশ)।


🔰পরস্পর (পর + পর)।


🔰গোস্পদ (গো + পদ)।


🔰বৃহস্পতি (বৃহৎ + পতি)


🔰মনীষা (মনস্ + ঈষা)।


🔰আশ্চর্য (আ + চৰ্য)।


🔰একাদশ (এক্ + দশ)।



মনে রাখাকে আরো সহজ করতে প্রথমে কয়েকটির অর্থ জানতে হবে। যেমন-


  • যেমন- দ্যুলোক = আকাশ।

  • ষোড়শ = ১৬। 

  • তস্কর = চোর।

  • গোস্পদ = গোয়াল ।

  • মনীষা = জ্ঞানী।

  • একাদশে বৃহস্পতি = সুখের/ আনন্দের দিন।



এবার  নিচের গল্পটি পড়ুন-

সেদিন মেঘলা আকাশ রাতে ১৬ জন চোর এক গাছের নীচে বসে পরস্পর চুরির ফাঁদ খুঁজছিলেন। কিন্তু হঠাৎ তাদের মধ্যে জ্ঞানী চোর পতঞ্জলী হরিশ্চন্দ্রের বাড়িতে গোয়াল দেখে আশ্চর্য হয়ে চিৎকার করে উঠলেন, আজকে আমাদের আনন্দের দিন।


গল্পটি কেমন লাগল, নিশ্চয় ভাল। এখন কষ্ট করে ঐ গল্পটিই আরেকবার পড়ুন-


সেদিন মেঘলা দ্যুলোক রাতে ষোড়শ জন তস্কর এক বনস্পতির নীচে বসে পরস্পর চুরির ফাঁদ খুঁজছিলেন। কিন্তু হঠাৎ তাদের মধ্যে মনীষা চোর পতঞ্জলীর বাড়িতে গোষ্পদ দেখে আশ্চর্য হয়ে চিৎকার করে উঠলেন, আজকে আমাদের একাদশে বৃহস্পতি।


নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি মনে রাখার আরো একটি কৌশল

কবিতা আকারে পড়ুন-


ষোড়শ তস্কর পতঞ্জলি আম্পদ


আশ্চর্য বনস্পতি


একাদশে বৃহস্পতি


মনীষা পরস্পর


দ্যুলোকের গোষ্পদ




2.নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি 


প্রথমে একনজরে দেখি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ -



🔰গৰেন্দ্ৰ (গো+ইন্দ্ৰ)


🔰গবেশ্বর (গো + ইশ্বর)


🔰প্রৌঢ় (প্র + ঊঢ়)।


🔰শারঙ্গ (শার +অঙ্গ)।


🔰গবাক্ষ (গো + অক্ষ)।


🔰রকোষ্ঠ (রক্ত + ওষ্ঠ)।


🔰 কুলটা (কুল + অটা)।


🔰মার্তণ্ড (মার্ত + অণ্ড)।


🔰সীমন্ত (সীম + অন্ত)।


🔰 শুদ্ধোদন (শুদ্ধ +ওদন)।


🔰অন্যান্য (অন্য + অন্য)


🔰স্বৈর (স্ব+ঈর)। 


🔰অক্ষৌহিণী (অক্ষ +ঊহিনী)।



মনে রাখার কৌশল


মনে রাখাকে আরো সহজ করতে প্রথমে কয়েকটির অর্থ জানতে হবে। যেমন-


প্রৌঢ় = মধ্যবয়সী

কুলটা = অসতী নারী

অক্ষৌহিণী  = সেনাদল

গবাক্ষ =জানালা 

সীমন্ত= সিথি

মার্তণ্ড = সূর্য


নিচের গল্পটি পড়ুন

গৰেন্দ্ৰ স্ত্রী একদিন মধ্যবয়সী গবেশ্বরকে রক্তোষ্ঠ করে মেরে শারঙ্গতে ফেলে দেয়। তখন এক অসতী নারী জানালা খুলে সূর্যের আলোতে সিথিতে সিদুর দিচ্ছিলেন। এই দৃশ্য স্বৈর রাজা শুদ্ধোদন দেখে তার সেনাদল ও অন্যান্য মন্ত্রীকে পাঠালেন।


এখন কষ্ট করে ঐ গল্পটিই আরেকবার পড়ুন- গবেন্দ্রের স্ত্রী একদিন প্রৌঢ় গবেশ্বরকে রক্তোষ্ঠ করে মেরে শারঙ্গতে ফেলে দেয়। তখন এক কুলটা গবাক্ষ খুলে মার্তণ্ডের আলোতে সীমন্ততে সিঁদুর দিচ্ছিলেন। এই দৃশ্য স্বৈর রাজা শুদ্ধোদন দেখে তার অক্ষৌহিণী ও অন্যান্য মন্ত্রীকে পাঠালেন।



3. নিপাতনে সিদ্ধ বিসর্গস্বন্ধি


প্রথমে একনজরে দেখি নিপাতনে সিদ্ধ বিসর্গস্বন্ধি উদাহরণ -



🔰বাচস্পতি (বাচঃ + পতি) ।


🔰হরিশ্চন্দ্র (হরিঃ + চন্দ্র) ।


🔰শিরঃপীড়া (শিরঃ+পীড়া)।


🔰ভাস্কর (ভাঃ + কর)।


🔰আস্পদ (আঃ + পদ)। 


🔰প্রাতঃকাল (প্রাতঃ+কাল)। 


🔰মনঃকষ্ট (মনঃ+কষ্ট) ।


🔰অহরহ (অহঃ + অহ)।


🔰অহর্নিশ (অহঃ + নিশা)।



নিপাতনে সিদ্ধ বিসর্গসন্ধি মনে রাখার ম্যাজিক কৌশল দেখানো হলো


বাচস্পতি বাবুর স্নেহের আস্পদ হরিশ্চন্দ্র। তিনি অহরহ শিরঃপীড়ায় ভোগেন। তাই প্রাতঃকালে তিনি ভাস্কর দেখতে পাননা বলে অহর্নিশ মনঃকষ্টে আছেন।


আরো পড়তে click করুন

অপরিচিতা গল্পের গুরুত্বপূর্ণ mcq (pdf)সহ


বিড়াল গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর (pdf)সহ


মাসি পিসি গল্পের গুরুত্বপূর্ণ mcq (pdf)সহ


চাষার দুক্ষু গল্পের গুরুত্বপূর্ণ mcq (pdf)সহ


✅রেইনকোট গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর (pdf) সহ

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url