চেহারা সুন্দর করার দোয়া-চেহারা সুন্দর করার ১০০% কার্যকারি কোরআনি আমল
নষ্টারডেমাস এর ভবিষ্যদ্বাণী ? নাকি আবু হুরায়রা রা. এর পাণ্ডুলিপি !
প্রিয় দ্বীনি মুমিন মুসলমান ভাই ও বোনদের আমার আন্তরিক সালাম আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি, আপনাদের সবাইকে আমাদের website এ স্বাগতম, আজকে আমি আপনাদের মাঝে বলে দিবো চেহারা সুন্দর নুরান্নিত করার বিশেষ কয়েকটি কার্যকারি কোরআনি আমল বা দোয়া। যদি আপনি চান আপনার চেহারা সুন্দর নূরানী করতে তবে আমলটি আপনার জন্য-আমলটি যদি আপনি সঠিক ভাবে করতে চান দয়া করে সম্পূর্ণ পোস্টি পড়বেন নতুবা কিছুই বোঝতে পারবেন না।যদি আপনি সঠিক ভাবে নিয়মিত আমলগুলো করতে পারেন ইনশাআল্লাহ আমি আসা করছি আপনার চেরার মাঝে নূরের ঝলক দেখা যাবে এই আমল গুলি করার নিয়ম পদ্ধতি নিচে ধারাবাহিক ভাবে বর্ণনা করা হলো-
➤১আমি প্রথম যে আমলটির কথা বলবো সেটা হচ্ছে মহা গ্রন্থ আল কিরআন মাজিদের সূরা নূরের একটি বিষেশ আয়াত,,
সুরা নূর এর ৩৫ নং আয়াত পাঠ করে চেহারার উপর মাসিহ করা
আয়াতটি নিচে দেওয়া হলো সাথে আয়াতটির বাংলা অর্থ দেওয়া হলো- আসা করছি আপনারা আমলটি করবেন পাশাপাশি আয়াতটির আপনারা বাংলা বিশেষ অর্থটি পরে দেখবেন ইনশাআল্লাহ।
আয়াতটি নিচে দেওয়া হলো
-اَللّٰهُ نُوْرُ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ ؕ مَثَلُ نُوْرِهٖ كَمِشْكٰوةٍ فِيْهَا مِصْبَاحٌ ؕ الْمِصْبَاحُ فِىْ زُجَاجَةٍ ؕ اَلزُّجَاجَةُ كَاَنَّهَا كَوْكَبٌ دُرِّىٌّ يُّوْقَدُ مِنْ شَجَرَةٍ مُّبٰـرَكَةٍ زَيْتُوْنَةٍ لَّا شَرْقِيَّةٍ وَّلَا غَرْبِيَّةٍ ۙ يَّـكَادُ زَيْتُهَا يُضِىْٓءُ وَلَوْ لَمْ تَمْسَسْهُ نَارٌ ؕ نُوْرٌ عَلٰى نُوْرٍ ؕ يَهْدِى اللّٰهُ لِنُوْرِهٖ مَنْ يَّشَآءُ ؕ وَ يَضْرِبُ اللّٰهُ الْاَمْثَالَ لِلنَّاسِؕ وَاللّٰهُ بِكُلِّ شَىْءٍ عَلِيْمٌ ۙ
সূরা নম্বরঃ ২৪, আয়াত নম্বরঃ ৩৫
আল্লাহ্ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর জ্যোতি, তাঁহার জ্যোতির উপমা যেন একটি দীপাধার যাহার মধ্যে আছে এক প্রদীপ, প্রদীপটি একটি কাচের আবরণের মধ্যে স্থাপিত, কাচের আবরণটি উজ্জ্বল নক্ষত্র সদৃশ; ইহা প্রজ্বলিত করা হয় পূত-পবিত্র যায়তূন বৃক্ষের তৈল দ্বারা যাহা প্রাচ্যের নয়, প্রতীচ্যেরও নয়, অগ্নি উহাকে স্পর্শ না করিলেও যেন উহার তৈল উজ্জ্বল আলো দিতেছে; জ্যোতির উপর জ্যোতি! আল্লাহ্ যাহাকে ইচ্ছা পথনির্দেশ করেন তাঁহার জ্যোতির দিকে। আল্লাহ্ মানুষের জন্য উপমা দিয়ে থাকেন এবং আল্লাহ্ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ।
আমলের নিয়ম
➤আমলটি করার বিশেষ কোন মূহুর্ত নেই তবে যেই সময় দোয়া কবুল হয় এমন সময় আমলটি করতে পারলে
ভালো। প্রথমতো আপনাকে ভালোভাবে অজু করে নিতে হবে তার পর রসূল (স) এর উপর কয়েকবার দরুত পরবেন অতপর আয়াতটি পাঠ করে হাতের তালুতে ফুক দিয়ে সেই হাত আপনার চেহারার উপর মাসেহ করবেন। আমলটি আপনে ফরজ নাজজের পর করতে পারলে ভালো যেহেতু ফরজ নাজের পর দোয়া কবুল হয়।
জেনে নিন দোয়া কবুলের সময় -
➤২
বেশি বেশি অজু করা --যে যত বেশি অজু করবে তার চেহারা তত বেশি নূরান্নিত হবে। কেননা আমরা একটি হাদিস থেকে জানতে পারি রসূল (স) হাশরের ময়দানে তার উম্মতদের চিনতে পারবেন তাদের হাত মূখ থেকে নূর বিচ্ছুরিত হবে তা দেখে।
➤এ সম্পর্কে হাদিসটি উল্লেখ করা হলোঃ
➤উক্ত রাবী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (একবার) কবরস্থানে এসে (কবরবাসীদের সম্বোধন ক’রে) বললেন, “হে (পরকালের) ঘরবাসী মুমিনগণ ! তোমাদের উপর শান্তি বর্ষণ হোক । যদি আল্লাহ চান তো আমরাও তোমাদের সঙ্গে মিলিত হব । আমার বাসনা যে, যদি আমরা আমাদের ভাইদেরকে দেখতে পেতাম ।” সাহাবীগণ নিবেদন করলেন, ‘হে আল্লাহর রসূল ! আমরা কি আপনার ভাই নই ?’ তিনি বললেন, “তোমরা তো আমার সহচরবৃন্দ । আমার ভাই তারা, যারা এখনো পর্যন্ত আগমন করেনি ।” সাহাবীগণ বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল ! আপনার উম্মতের মধ্যে যারা এখনো পর্যন্ত আগমন করেনি, তাদেরকে আপনি কিভাবে চিনতে পারবেন ?’ তিনি বললেন, “আচ্ছা বল, যদি খাঁটি কাল রঙের ঘোড়ার দলে, কোনো লোকের কপাল ও পা সাদা দাগবিশিষ্ট ঘোড়া থাকে, তাহলে কি সে তার ঘোড়া চিনতে পারবে না ?” তাঁরা বললেন, ‘অবশ্যই পারবে, হে আল্লাহর রসূল !’
তিনি বললেন, “তারা এই অবস্থায় (হাশরের মাঠে) আগমন করবে যে, ওযূ করার দরুন তাদের হাত-পা চমকাতে থাকবে । আর আমি ‘হাওযে’-এ তাদের অগ্রগামী ব্যবস্থাপক হব (অর্থাৎ তাদের আগেই আমি সেখানে পৌঁছে যাব ।)
ফুটনোটঃ
(সহীহুল বুখারী ২৩৬৭, মুসলিম ২৪৯, নাসায়ী ১৫০, আবূ দাঊদ ৩২৩৭, ইবনু মাজাহ ৪৩০৬, আহমাদ ৭৯৩৩, ৮৬৬১, ৯০৩৭, ৯৫৪৭, ৯৬৯৩, মুওয়াত্তা মালিক ৬০)
রিয়াদুস সলেহিন, হাদিস নং ১০৩৬
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
➤নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মুক্তদাসী মায়মূনাহ (বিনতু সা‘দ) (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
➤রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (একবার) কবরস্থানে এসে (কবরবাসীদের সম্বোধন ক’রে) বললেন, “হে (পরকালের) ঘরবাসী মুমিনগণ ! তোমাদের উপর শান্তি বর্ষণ হোক । যদি আল্লাহ চান তো আমরাও তোমাদের সঙ্গে মিলিত হব । আমার বাসনা যে, যদি আমরা আমাদের ভাইদেরকে দেখতে পেতাম ।” সাহাবীগণ নিবেদন করলেন, ‘হে আল্লাহর রসূল ! আমরা কি আপনার ভাই নই ?’ তিনি বললেন, “তোমরা তো আমার সহচরবৃন্দ । আমার ভাই তারা, যারা এখনো পর্যন্ত আগমন করেনি ।” সাহাবীগণ বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল ! আপনার উম্মতের মধ্যে যারা এখনো পর্যন্ত আগমন করেনি, তাদেরকে আপনি কিভাবে চিনতে পারবেন ?’ তিনি বললেন, “আচ্ছা বল, যদি খাঁটি কাল রঙের ঘোড়ার দলে, কোনো লোকের কপাল ও পা সাদা দাগবিশিষ্ট ঘোড়া থাকে, তাহলে কি সে তার ঘোড়া চিনতে পারবে না ?” তাঁরা বললেন, ‘অবশ্যই পারবে, হে আল্লাহর রসূল !’ তিনি বললেন, “তারা এই অবস্থায় (হাশরের মাঠে) আগমন করবে যে, ওযূ করার দরুন তাদের হাত-পা চমকাতে থাকবে । আর আমি ‘হাওযে’-এ তাদের অগ্রগামী ব্যবস্থাপক হব । (অর্থাৎ তাদের আগেই আমি সেখানে পৌঁছে যাব ।)
(সহীহুল বুখারী ২৩৬৭, মুসলিম ২৪৯, নাসায়ী ১৫০, আবূ দাঊদ ৩২৩৭, ইবনু মাজাহ ৪৩০৬, আহমাদ ৭৯৩৩, ৮৬৬১, ৯০৩৭, ৯৫৪৭, ৯৬৯৩, মুওয়াত্তা মালিক ৬০)
রিয়াদুস সলেহিন, হাদিস নং ১০৩৬
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
➤৩ নং আমি যে আমলের কথা আপনাদের বলবো সেটি খুব সহজ একটা আমল, আমল আপনি যেকোন সময় করতে পারেন,আমলটি খুবই সহজ মহান আল্লাহ তায়ালার একটি গুনবাচক নাম ☞আন নূরু নামটি পাঠ করে হাতের তালোতে ফুক দিয়ে তা দ্বারা মুখমন্ডল মাসেহ করা।
মহান আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেছেন>তোমার প্রতিপালককে মনে মনে বিনীত ও সশংকচিত্তে অনুচ্চস্বরে প্রত্যূষে ও সন্ধ্যায় স্মরণ করিবে এবং তুমি উদাসীন হইবে না।
وَاذْكُرْ رَّبَّكَ فِىْ نَفْسِكَ تَضَرُّعًا وَّخِيْفَةً وَّدُوْنَ الْجَـهْرِ مِنَ الْقَوْلِ بِالْغُدُوِّ وَالْاٰصَالِ وَلَا تَكُنْ مِّنَ الْغٰفِلِيْنَ
সূরা নম্বরঃ ৭, আয়াত নম্বরঃ ২০৫
☞তিনি আরো বলেন আর আল্লাহ তায়ালার রয়েছে সুন্দর সুন্দর নামসমূহ তোমরা তা মনে মনে বিনীত ও সশংকচিত্তে অনুচ্চস্বরে স্বরন করো বা তাকে আহবান করো আর তিনি বিশ্বাসিদের আহবানে সাড়া দেন।
➤আমলের নিয়ম বা পদ্ধতিঃ
এই এসেমটি তথা নামটি আপনে যকোন সময় পরতে পারেন তবে উত্তম হয় যদি আমলটির পূর্বে অজু করে
নেন,অতপর রসূর (স) এর উপর কয়েকবার দরুদপাঠ
করে আন নূরু নামটি ৩বার ৭বার অথবা ১১ বার পাঠ করে আপনার মুখমণ্ডলের উপর ভালোভাবে মাসেহ করুন ইনশাআল্লাহ আপনি এর ফল লাভ করবেনই ইনশাআল্লাহ।
প্রিয় ইমানদার ভাই ও বোনেরা আপনারা যদি উপরোক্ত আমল গুলো নিয়মিত করতে পারেন তাহলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পার্থক্য বোঝতে পারবেন। মহান রাব্বুলআলামিন আপনাদের আমলগুলো করার তৈফিক দান করুন আমিন।
